মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

রাউজান উপজেরার পটভূমি

সমুদ্র কন্যা রূপ গরবীনী চট্টলার অতি আদরের দুলালী, বীর প্রসবিনী রাউজান।প্রকৃতির অকৃপণ দানে ঋদ্ধ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার আলোকে পরিপুষ্ঠ এক, জ্ঞানের অনির্বাণ শিখায় প্রদীপ্ত আলোকময় এক মানব গোষ্ঠির বিকাশ ঘটেছে দক্ষিন চট্টগ্রামের প্রায় আড়াইশ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে।প্রচুর মানব সম্পদ(জনসংখ্যা=প্রায় সাড়ে তিন লাখ, সুত্রঃ অদম শুমারী ২০০১খৃঃ)ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, অপরূপা রাউজানের রয়েছে অত্যন্ত সুসমৃদ্ধ ইতিহাস। তবে স্থান ও সময়ের অভাবে আমরা এখানে আমি শুধু রাউজানের সম্পদ ও সম্ভাবনা নিয়ে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করবো। 

চট্টগ্রামের একটি আলোকিত জনপদের নাম রাউজান। চট্টগ্রামের বুকে এক চিলতে রোদেলা আকাশ রাউজান। বহমান উন্নয়নের স্রোতধারার ফলশ্রুতিতে দেশ-বিদেশের কাছে রাউজানের সুনাম দিন দিন ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কীর্তিমান রাউজান নামের গোড়াপত্তন সম্পর্কে এখনো অনেকের কাছে অজানা রহস্যময় কিংবদন্তি লোক-কাহিনী।ঐতিহাসিক তথ্য থেকে এবং বয়োবৃদ্ধদের কাছ থেকে যতদূর জানা যায়,আদি রাউজান কি নামে ছিল কিংবা রাউজান নামকরণ কিভাবে হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতামত।তবে রাউজান যে আরাকান প্রভাবজাত এ ব্যাপারে অনেক ইতিহাস গবেষক ঐক্যমত পোষন করেন।সঙ্গত কারণে রাউজান নামের পেছনে কোন ঐতিহাসিক তথ্য কিংবা লোক-কাহিনী জড়িত থাকা স্বাভাবিক একটি ঘটনা মাত্র। মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্ত গবেষক চট্টল তত্ত্ববিদ আবদুল হক চৌধুরী রচিত ‘রাউজান নামের উৎস’ বইয়ে রাউজান নামের নামকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে আরাকানী ভাষায় ছোট ছোট গ্রামকে রোয়াঙে এবং গ্রামের শেষ অংশকে রোয়াজোয়েঙ বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এই রোয়াজোয়েঙ শব্দটি কালের বিবর্তনে বিকৃত হয়ে ‘রাউজান’ নামের সূচনা হয়েছে। রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের একটি ছোট ধানী বিলকে এখনো ‘রোয়াঙে ’ বিল বলা হয়ে। তবে অধিকাংশ ইতিহাস গবেষকেরা মনে করেন রাউজান নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত থাকলে ও সময়ের পালাবদলে রাউজান একটি কিংবদন্তি জনপদে পরিণত হয়েছে একথা নিঃসন্দেহে বলা চলে।
রাউজানের এম.পি জনাব এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী মহোদয়ের নির্দেশে রাউজান এখন গোলাপী শহরে পরিণত হয়েছে।যাঁর পরতে পরতে জন উন্নয়নমূখী কর্মকান্ডের ছোঁয়া দৃশ্যমান।যে ভবনটি অল্প কিছুদিন আগে ও জরাজীর্ণ ছিল সেটা এখন গোলাপী রঙের বাহারী সজ্জায় সজ্জিত। রাউজানের এমন কোন দালান-কোটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাবেন না যেখানে গোলাপী রঙের আছড় লাগেনি। বিশ্বে খ্যতিমান শহরের আদলে দৃষ্টিনন্দন করতে এত সব বিশাল আয়োজন। অদূর ভবিষ্যত, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে রাউজানকে বাংলাদেশের কাছে একটি সৌন্দর্যের নগরীতে পরিণত করতে এ উদ্যোগের গোড়াপত্তন। অগ্রসরমান চট্টগ্রামের একটি নির্মল পরিবেশে এবং পরিচ্ছন্ন জনপদের নাম রাউজান। উন্নয়নের উর্বর চারণভূমি হিসেবে রাউজানের নাম দিগন্তজুড়ে স্বীকৃত। চোখ ধাঁধানো বাহারীসব কর্মকান্ডের জন্য রাউজানের খ্যাতি দিন দিন বেড়েই চলছে। সুদূর ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে নেমে আসা লুসাই পাহাড়ের ঝর্ণাধারা দুহিতা-কর্ণফুলির তীরঘেঁষা প্রকৃতির উদার আলিঙ্গন এবং এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা বিধৌত অববাহিকায় রাউজানকে করেছে নিজস্ব স্বকীয়তায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সবুজ অরণ্যের অপূর্ব মিতালীর এক মনোরম পরিবেশের অঞ্চল এটি। বন-বনাঞ্চল, সমতলভুমি, নৈসর্গিক এক নান্দনিক পরিবেশের কারণে রাউজানকে করেছে এক অনন্য বৈচিত্র্যের অধিকারী। শৌর্যে-বীর্যে, রূপ-লাবণ্যে রাউজান নিজস্ব পরিম-লে আবদ্ধ না থেকে বিস্তৃতি লাভ করেছে বহুদূর পর্যন্ত। রাউজানের বর্তমান হালচাল অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন নতুন সোনালী অধ্যায়ের জন্ম দিচ্ছে। অসংখ্য নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনার সৃষ্টি হচ্ছে। এসবই রাউজানের আপামর জনসাধারণের ভাগ্যন্নোয়নে টনিকের মত কাজ করছে। বর্তমানে রাউজানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অহরহ উন্নয়নের ছোঁয়া দৃশ্যমান। যত্রতত্র চোখে পড়বে উন্নয়ন শুধুই উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি। সুখ ও সমৃদ্ধির পথে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে রাউজানের পরিকল্পনা মাফিক পথচলা ভবিষ্যৎ কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে। উন্নয়নে মসৃণ অগ্রযাত্রায় একের পর এক স্বর্ণের পালক যোগ হচ্ছে রাউজানের ইতিহাস-ঐতিহ্যে। রাউজানের এমন কোন জায়গা পাবেন না যেখানে চলমান উন্নয়নের সোনালী পরশের স্পর্শ লাগেনি। যে দিকে চোখের দৃষ্টি যাবে সেই দিকে শুধুই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন ইত্যাদিসব উন্নয়ন কর্মকান্ড। যার কারণে রাউজানের উন্নয়নের কথামালা রাউজানের সীমানা ছাড়িয়ে লোকের মুখে মুখে। কারণ রাউজানের অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সাফল্য লুটিয়ে পড়েছে মানুষের পায়ের দোর গোড়ায়। এহেন উন্নয়ন সাফল্যে রাউজানের সর্বস্তরের মানুষ ছাড়া ও তৎসংলগ্ন আশে-পাশের অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে সমসুরে উচ্চারিত হচ্ছে উন্নয়নের জয়ের ধ্বনি। রাউজানের আত্ম-সামাজিক উন্নয়নে এবং সর্বস্তরের গণমানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে অনেক চড়া-উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বর্তমান সাংসদ এ.বি.এম.ফজলে করিম চৌধুরীকে। তিনি অত্যান্ত বিচক্ষণতার সাথে রাউজানের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক সফল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে। রাউজানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে সমস্যা আছে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন সমাধানের যথাযথ উপায় নিয়ে।বর্তমান সাংসদের এমন কর্মকান্ড, মন-মানসিকতা সবই জয় করে নিয়েছে রাউজানে বসবাসরত সর্বশ্রেণীর মানুষদের। রাউজানের জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করা বর্তমান সাংসদ এ.বি.এম.ফজলে করিম চৌধুরীর ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। তিনি রাউজানের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। তাইতো তিনি সার্বক্ষণিকভাবে রাউজানের মানুষদের সাথে নিয়ে নিজ আবাসভূমিতে পড়ে রয়েছেন। চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়ন কর্মসূচীর মডেল হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে বলতে হয় রাউজানের সর্বক্ষেত্রে জনকল্যাণমুখি কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। রাউজানের সব শ্রেণির মানুষের গড় আয় বেড়েছে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা বেড়েছে। শিক্ষা-দীক্ষায় অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। নতুন নতুন স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা এখন মানুষের হাতের নাগালে। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে সহজ লভ্যতার দরুন ইন্টারনেট এখন রাউজানের মানুষের হাতে হাতে। মাননীয় সাংসদ রাউজানে একটি আইটি সেন্টার গড়ে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা এবং উন্নত বহিঃবিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যার সুফল ইতিমধ্যে রাউজানের মানুষেরা ভোগ করছেন। রাউজানের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং টেকশই শরীর গঠনে নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া ও রাউজানের আনাচে-কানাচে ৫০টির ও অধিক কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে এক অনন্য দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্যের নিদারুন উন্নতি হচ্ছে। বলতে গেলে রাউজানের প্রত্যেকটি ভাল কাজের সাথে এম,পি মহোদয়ের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি যে শুধু রাউজানের গণমানুষের কল্যাণে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তা নয়; পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল ধর্মের মর্মবাণী নিয়ে কাজ করছেন প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের জন্য সাংসদের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। রাউজানের প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসায় আন্তরিকতার সাথে ফ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আবার অনেক মসজিদে তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাইকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়া মসজিদের উন্নয়নের জন্য সরকারী বরাদ্ধের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান দিয়ে মসজিদ এবং মাদ্রাসার খেদমত করে যাচ্ছেন। এছাড়া মসজিদের ইমাম,পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানিভাতা, বর্ষাকালীন ছাতাসহ বিভিন্ন উপায়ে সম্মানিত করে নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসব ধর্মীয় কর্মকা-গুলো তিনি অত্যন্ত গোপনে সম্পাদন করেছেন। এ রকম আরো অনেক বহু ধর্মীয় কর্মকান্ড লোকচক্ষুর আড়ালে মানুষের দৃষ্টির বাহিরে গিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের আশায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।
রাউজানের এই অভাবনীয় উন্নতি ও পরিবর্তনে জনগণ ভীষণ খুশিতে আত্মহারা। রাউজানের মানুষেরাও নিজেদের গর্বিত মনে করছেন। অতীতের রাউজান এবং বর্তমান রাউজানের মধ্যে যোজন যোজন পার্থক্য বিরাজমান। বর্তমান রাউজানকে দেখলে মনে হবে আমরা রাউজানবাসী স্বর্গলোকে অবস্থান করেছি। রাউজানের পারিপার্শ্বিক অবস্থানের কারণে যত্রতত্র উন্নয়নের সুবাতাসে এক স্বপ্নপুরীর পরিবেশ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করার জন্য ধন্যবাদ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের আশা আগামীতেও রাউজানের ধারাবাহিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। নতুন নতুন উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্নসারথীর মানুষদের সামনে হাজির হবেন এবং রাউজানের মানুষেরা অশেষ লাভবান হবেন। আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের রাউজানকে আমদের মত করে গড়ে তুলি।

ঐতিহাসিকস্থান

  • শাহ বিবির মসজিদ - রাউজান থানার রাউজান গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ। আঠার শতকের প্রথম দিকে নির্মিত এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই পাকা মসজিদটি আজো অটুট অবস্থায় আছে। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ষোল শতকের চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আনোয়ারা থানার শোলকাটা রাউজান গ্রামের জমিদার আমির মোহম্মদ চৌধুরীর স্বনামধন্য পত্নী শাহবিবি। চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ মলকা বাণু ছিলেন শাহবিবির কন্যা। শাহী আমলের সনদ অনুসারে এই মসজিদের একুশ দ্রোন বার কানি এক গন্ডা দুই কড়া লাখেরাজ জমি ছিল।
  • মইস্যা বিবির মসজিদ - রাউজান থানার শাহ বিবির মসজিদের একশত গজ দক্ষিণে অবস্থিত । এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি আজো অটুট অবস্থায় আছে। মইস্যা বিবি ছিলেন শাহবিবির স্বনামখ্যাত পুত্রবধু জমিদার মোহম্মদ জাফর চৌধুরীর পত্নি।
  • নবীনচন্দ্র সেন এর শ্মশান
  • মহামুনি বৌদ্ধবিহার
  • ডাবুয়া ধরের বাড়ি
  • রায়মুকুট দীঘি
  • লস্কর উজির দীঘি
  • ঈসা খাঁ দীঘি
  •  

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter