মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসন

 

ভৌগলিক অবস্থানঃ

 

             রাউজান উপজেলার আয়তন হল ২৪৬.৫৮ বর্গ কিঃমিঃ। চট্টগ্রামের দুইটি প্রধান নদী কর্ণফুলী ও হালদা রাউজানের উপর দিয়ে বয়ে গেছে।রাউজানের উত্তরে ফটিকছড়ি, দক্ষিণে বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী নদী, পূর্বে রাঙ্গুনীয়া, কাউখালী উপজেলা(রাঙ্গামাটি) এবং পশ্চিমে রয়েছে হাটহাজারী।   

 

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমিঃ
      দেশবিভাগের পর ১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে রাউজান থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়।৯০ এর দশকে এটি উপজেলা এবং পৌরসভা ঘোষিত হয় ২০০০ সালে।

 

প্রশাসনিক এলাকাঃ

রাউজান উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪ টি ইউনিয়ন আছে ।

ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে:

১.রাউজান, ২.বাগোয়ান, ৩.বিনাজুরী,  ৪.চিকদাইর,  ৫.ডাবুয়া

৬.পূর্বগুজরা,  ৭.পশ্চিমগুজরা,  ৮.গহিরা,  ৯.হলদিয়া,  ১০.কদলপূর,

১১.নওয়াজিশপূর,  ১২.নোয়াপাড়া,  ১৩.পাহাড়তলী,  ১৪.উড়কিরচর,

১৫. সুলতানপুর

নামকরণঃ

      রাউজান উপজেলার প্রাচীন ইতিহাসের সাথে বৌদ্ধ উপনিবেশের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত।জানা গেছে যে, রাউজানে আদি বসতি স্থাপনকারী হলো বৌদ্ধরা। বিনাজুরীতে প্রায় ৪ শত বছরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার রয়েছে। রাউজান এলাকার নামকরণের সাথেও বৌদ্ধ ঐতিহ্য জড়িত। কারন মোগল সুবেদার শায়েস্তা খান কর্তৃক ১৬৬৬ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রায় ১০০০ বছর পূর্ব থেকে সারা চট্টগ্রাম অঞ্চলই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মগ বা আরাকানীদের অধিকারে ছিল।ফলে রসিকতা করে অনেকে চট্টগ্রামকে ‘মগের মুল্লুক’ও বলতেন।সে অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে, রাউজানও একসময় আরাকান রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। আরাকানী ভাষায় এটিকে বলা হতো ‘রজোওয়াং’ বা রাজ পরিবারের ভূমি। আর এ নামের অপভ্রংশ থেকেই রাউজান নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে বিশিষ্ট পন্ডিতগণের ধারণা।
 

 

 

রাউজানেরভূ-প্রকৃ্তিকওমৎস্যসম্পদ:
রাউজানে রয়েছে সুসমৃদ্ধ ভূ-প্রকৃ্তিক ও ঐতিহ্যবাহী মৎস্য সম্পদের ভান্ডার। রাউজানের ভূ-প্রাকৃ্তিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিশেষতঃ হালদা নদীর মৎস্য সম্পদ, প্রায় ৪ হাযার পুকুর ও দীঘি।শুকনা মওশুমে এসব নদী ও পুকুরের পানি ব্যবহার করে সেচের মাধ্যমে জমিতে চাষাবাদের কাজ করা হচ্ছে।

 

রাউজানেরসাংস্কৃতিকওলোকঐতিহ্য-
           ক।রাউজানেরঐতিহ্যবাহীমেলা-

১।বৈশাখী মেলা: ১লা থেকে ৩রা বৈশাখ মেলা পর্যন্ত তিন দিনব্যপী চলে এ মেলা।বৈশাখী মেলায় বিভিন্ন রকম কুটির শিল্পজাত পণ্যাদি কেনাবেচা করা হয়।শিকা, চটের ব্যাগ, ঝুড়ি,পাটের তৈরী বাটি ও পেয়ালা, বাঁশের পাখা, ডালা, কুলা, চালুনী, মাছ ধরার চাঁই-জাল, বেতের মোড়া ও আসবাবপত্র, নারিকেলের মালার তৈরী পুতুল, তৈজস পত্র, মাটির পুতুল, খেলনা, রান্নার হাড়ি পাতিল, এলুমিনিয়ামের ডেকচি পাতিল ইতাদি সহ ঘরকন্যার যাবতীয় সামগ্রী পাওয়া যায় এ মেলায়।

 


এছাড়া আরো বেশ ক’য়েকটি মেলা আয়োজিত হয় এ রাউজানে।সেগুলো হচ্ছে –

অষ্টমী পূর্ণিমার মেলা (২০-২৩ আষাঢ়), আশ্বিনী পূর্ণিমার মেলা (১৫-১৮ আশ্বিন), মাঘী
পূর্ণিমার মেলা(মাঘ মাসের পূর্ণিমার দিন থেকে পাঁচ দিন)।
জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার লোক খুবই উৎসাহ ও উদ্দীপণার সাথে এসব মেলায় অংশগ্রহণ ও কেনা-কাটা করে থাকেন